ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

খালেদা জিয়ার আদর্শই বাংলাদেশের পথনির্দেশনা: আসিফ নজরুল


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:২৫ পিএম

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একটি মূল্যবোধ, একটি নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে হলে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে ধারণ করা জরুরি।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এ নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি উনার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। আপনাদের মনে আছে, আমি একটা কথা বলতাম—বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়, তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও জীবন ছিল আত্মত্যাগ, সাহস ও দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ। গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি বারবার নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।


আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। উনি সৎ ছিলেন, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, আত্মত্যাগী ছিলেন, দেশপ্রেমিক ছিলেন। উনার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন।” এসব গুণাবলি আজকের রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “আল্লাহর কাছে হাজার শোকর যে আজ আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে পারছি।” তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে এমন আয়োজন সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্য এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।” তার এই বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা।

বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শোকসভা শেষে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর