বাংলাদেশের মানুষ আবারও গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনামলে যেসব মা তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন, যেসব বোন তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন—তাদের আজ সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কিছু নেই। রাষ্ট্র তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সভায় বিগত আন্দোলন ও রাজনৈতিক নিপীড়নে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সহজ নয়। কিন্তু জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কোনো ষড়যন্ত্র দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের দায় এড়াতে পারে না। এই দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে গুম ও খুনের শিকার শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের নামে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রকৃত বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোনো বিচারই টেকসই হয় না। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।
সভায় তারেক রহমান গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলো শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির শিকার নয়, রাষ্ট্রের অবহেলার শিকার। তাদের চোখের জল শুকানোর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না। তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।