অনলাইন রিপোর্টার
শিক্ষা কখনো একতরফা নয়, বরং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা সচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক ও সমাজের সব স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা গুণগত ও কার্যকর হতে পারে না।
আজ (শনিবার) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেহানা পারভীন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের মূল লক্ষ্য শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের শক্তি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ বিকল্পহীন। শিক্ষা কখনোই একতরফাভাবে আরোপিত বিষয় হওয়া উচিত নয়। বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক, সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই শিক্ষা ব্যবস্থার নকশা ও বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন ও কল্যাণমূলক আন্দোলনে তরুণরা সবসময় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণরা শুধু সংখ্যায় নয়, অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যেও শক্তিশালী। সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে গড়ে ওঠা এই তরুণ সমাজ যুগে যুগে দেশের মৌলিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছে।
শিক্ষা সচিব উল্লেখ করেন, শিক্ষার গুণগত মান সরাসরি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। এর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দদায়ক, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হয়। এতে আন্তঃপ্রজন্ম ব্যবধানও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তারুণ্যের সহজাত শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসকে সহশিক্ষা কার্যক্রমভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করায় বিএনসিইউ প্রশংসার দাবিদার। এতে শিক্ষার সব স্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তরুণদের জন্য প্রগতিশীল ও মানুষকেন্দ্রিক চিন্তার পরিসর তৈরি হয়েছে।
রেহানা পারভীন শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন যে, বিশ্বে এখনও প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে ১৯.২ শতাংশ মানুষ এবং ৫.৬ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় তরুণদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক নেতৃত্ব প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ।
আকাশজমিন / আরআর