ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম শেষমেশ তার হারানো পদ ফিরে পেয়েছেন। সপ্তাহ খানেক আগে তার একটি বক্তব্য ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড় তৈরি হয়েছিল। এই মন্তব্যের কারণে বিসিবি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেয়ায় তার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে হয়। নাজমুল নির্ধারিত সময়ের পরে শোকজের জবাব দেন এবং ডিসিপ্লিনি কমিটিতে নিজের অবস্থান বিস্তারিত তুলে ধরেন। বোর্ডের এই কমিটি তার অবস্থানকে সন্তোষজনক মনে করে। সেই কারণেই গতকাল বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে নাজমুল ইসলাম আবার তার পদ ফিরে পান।
পদ ফিরে পাওয়ার পর নাজমুল জানান, বিসিবি আমার দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট, তাই পদ ফিরে পেয়েছি। এখন থেকে আমি আবার অর্থ কমিটির সব কাজ পরিচালনা করতে পারব।
নাজমুলের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে বিসিবি থেকে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। কারণ ক্রিকেটাররা খেললে ম্যাচ ফি পান, পারফরম্যান্স অনুযায়ী আলাদা ফি পান। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি এতে নেই। আমরা যে টাকা খরচ করছি, সেটি ফেরত চাইব না।”
এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব পদত্যাগ চেয়ে নাজমুলকে চাপ দেয়। একই সঙ্গে তারা বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেয়। এতে পরের দিন বিপিএলের দুটি ম্যাচ স্থগিত হয়। রাতের ম্যাচও অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিসিবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত ঘোষণা করে।
এরপর রাতে বিসিবি ও কোয়াবের বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শর্তসাপেক্ষে খেলায় ফেরার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। নাজমুল ইসলামও পরে বোর্ডকে কারণ দর্শানোর জবাব দেন এবং তা গ্রহণযোগ্য হওয়ায় পদ ফিরে পান।
এবার থেকে নাজমুল তার দায়িত্বপালনের সঙ্গে সঙ্গে বিসিবির অর্থ কমিটির কাজও পূর্ণভাবে চালিয়ে যাবেন। তার পদ ফিরে পাওয়া ক্রিকেটাঙ্গনে এক ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে এবং বোর্ডের পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর