অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে।
আজ সোমবার সকালে দুজন প্রসিকিউটর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “আজকের রায় বিটিভি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।” প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানও জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও রায় সম্প্রচার করা হবে।
এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন আসামি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
অন্য চারজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
চানখাঁরপুল মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনালটি তিন সদস্যের, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালই গত বছরের ১৭ নভেম্বর একই ঘটনার ওপর প্রথম রায় ঘোষণা করেছিল।
প্রথম রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক আইজিপি মামুন সেই মামলায় রাজসাক্ষীর ভূমিকাও পালন করেছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দিন (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক।
চানখাঁরপুল মামলার রায় ঘোষণার জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেদিন রায় ঘোষণা হয়নি। নতুন তারিখ হিসেবে ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। আজ আদালতে আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চারজনকে সরাসরি আদালতে আনা হয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে ঘটানো হত্যাকাণ্ডের বিচার আরও প্রমাণযোগ্য হবে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলো এই ধরনের মামলার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ধরনের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করার উদ্যোগ দেশের নাগরিকদের কাছে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিচারিক কার্যক্রম ও রায়ের খবর দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের লক্ষ্য।
আকাশজমিন / আরআর