ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকিং অপরাধ ঠেকাতে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ব্যাংক খাতের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন তাৎক্ষণিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সংঘটিত যেকোনো আর্থিক অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে বেনামি ঋণ, ঋণের অপব্যবহার, অর্থ পাচার, ঋণপত্র জালিয়াতিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেনজনিত অপরাধ দ্রুত ধরা পড়বে।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রো অ্যাকটিভ ট্রানজেকশন মনিটরিং সিস্টেম (পিটিএমএস)’ বা আগাম সতর্কতামূলক লেনদেন নজরদারি পদ্ধতি। চলতি মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি ব্যাংককে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের সব ব্যাংককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ধাপে ধাপে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

বর্তমানে কোনো ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) হিসেবে বিএফআইইউতে পাঠাতে হয়। এই প্রতিবেদন প্রতি মাসের ২২ তারিখে জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনকে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) হিসেবে চিহ্নিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হয়। তবে এই পদ্ধতিতে বিএফআইইউ তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পায় না। বিষয়টি পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল থাকে।

এ ছাড়া বাণিজ্যের মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক অপরাধের তথ্য বর্তমান ব্যবস্থায় বিএফআইইউর কাছে পৌঁছায় না। ফলে অনেক গুরুতর অনিয়ম ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু কর্মকর্তা, পরিচালক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আর্থিক অনিয়মে জড়াচ্ছেন।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে এর প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেনসংক্রান্ত। বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার বা ঋণ অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল খুবই সীমিত। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বিদ্যমান প্রতিরোধব্যবস্থা অর্থ পাচার ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

নতুন পিটিএমএস ব্যবস্থায় ব্যাংক হিসাব খোলার সময় গ্রাহকের ঘোষিত আয় ও ব্যয়ের উৎস নজরদারির আওতায় থাকবে। ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের উদ্দেশ্য ও নির্ধারিত খাতে ব্যবহার না হলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কসংকেত জারি হবে। ঋণপত্র খোলার সময় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের ব্যবসার ধরন, সক্ষমতা, সুবিধাভোগীর তথ্য এবং অর্থের গতিপথ বিশ্লেষণ করা হবে।

কোনো পর্যায়ে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ম মেনে ব্যবস্থা না নিলে তাকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এতে ঋণপত্রের মাধ্যমে অর্থ পাচার শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুর ও তুরস্ক পিটিএমএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থ পাচার ও অবৈধ আর্থিক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসেও একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশে পুরোপুরি এই ব্যবস্থা চালু হলে আর্থিক অপরাধ কমে আসবে বলে আশা করছেন বিএফআইইউ কর্মকর্তারা।



এ সম্পর্কিত আরো খবর