বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল সাফ ফুটসালের অভিষেক আসরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে। এই সাফল্যের পর থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দল। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে সাবিনা-সুমাইয়ারাদের নেওয়া হয় হাতিরঝিল এম্পিথিয়েটারে। সেখানে আলোঝলমলে পরিবেশে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হলেও এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক পুরস্কার বা বিশেষ ঘোষণা আসেনি।
ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ এবং হাতিরঝিলে আয়োজন করা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও সমর্থকরা। সাফল্যের আনন্দে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও খেলোয়াড়দের প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। এর আগেও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে নারী ফুটবলারদের। ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করা হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অর্থ এখনো পাননি খেলোয়াড়রা।
এই প্রেক্ষাপটে এবার নারী ফুটসাল দলের সাফল্যের পরও কোনো অর্থনৈতিক পুরস্কার বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঘোষণা না আসায় হতাশা তৈরি হয়েছে। ঋতুপর্ণারা এশিয়া কাপ নিশ্চিত করার পরও যেমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, সেই ধারাবাহিকতাতেই ফুটসাল চ্যাম্পিয়নদের ক্ষেত্রেও কেবল আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলকে অভিনন্দন। বিশেষ করে অধিনায়ক সাবিনাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সাবিনা বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়াবিদ যিনি দুটি ভিন্ন খেলায় তিনবার দেশকে সাফ চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তার এই কীর্তি বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে যুগের পর যুগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সাবিনার এই অসাধারণ কৃতিত্বের পরও জাতীয় দলে তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোচ পিটার বাটলারের একগুঁয়ে আচরণের কারণে তিনি জাতীয় দলে ডাক পাচ্ছেন না বলে ফুটবলসংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করেন। ব্যক্তি আক্রোশ জাতীয় দলে প্রতিফলিত হচ্ছে—এমন আলোচনা থাকলেও বাফুফের পক্ষ থেকে এই দূরত্ব ঘোচাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবিনা খাতুন বলেন, এই অর্জন দেশের সকল মানুষের জন্য। তিনি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ফুটসাল টিম ম্যানেজার, কোচিং স্টাফ ও দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। দেশের সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্যই এই ট্রফি উৎসর্গ করেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি বলেন, ফুটসাল দলের প্রতি দেশের মানুষের যে সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত। বাংলাদেশে মাত্র পাঁচ মাস আগে ফুটসাল শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সাফল্য আসবে ইনশাআল্লাহ।
ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান বলেন, মেয়েদের ফুটসাল শুরু হয়েছে মাত্র এক মাস আগে, আর এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তারা একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দিয়েছে। তিনি ১৪ জন খেলোয়াড়ের প্রশংসা করে বলেন, এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।
আকাশজমিন / আরআর