আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে ছিল।
সরেজমিনে মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগি কেনার জন্য ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি সোনালি জাতের মুরগিও দামের উর্ধ্বগতি দেখাচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি দাম বর্তমানে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, যা আগে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে ছিল। মুরগির দাম বেড়েছে, তবে ফার্মের ডিমের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বাদামি রঙের ডিমের প্রতি ডজন দামে ১১০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
গরুর মাংসের বাজারেও সামান্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি গরুর মাংস এখন ৮০০ টাকায় ক্রেতাদের হাতে যাচ্ছে। তবে মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি। পাঙাশ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২৫ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৬০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, শিং ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ এবং টাকি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
রায়ের বাজার এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, “বাজারে ব্রয়লার মুরগির সংকট রয়েছে। ফলে দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা মুরগি না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।” মুরগি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ধারণা ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকার মধ্যে মুরগি পাব। বাজারে এসে দেখি ১৯০ টাকা কেজি। তাই মুরগি না কিনে মাছ কিনে নিয়ে যাব।”
ডিম বিক্রেতা মনতাজ উদ্দিন জানান, শীতকালীন সবজি থাকায় ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল। তিনি বলেন, প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১১০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এ পরিস্থিতি ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করছেন, বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং রমজান শুরুর আগ পর্যন্ত মাংস ও ডিমের প্রয়োজনীয়তা মিটবে। ক্রেতাদের জন্য কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হলেও সরবরাহ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে মাংস ও মাছের দাম সামান্য বেড়েই থাকবে, তবে হঠাৎ দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রতিহত করতে ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
আকাশজমিন / আরআর