চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, পোস্ট অফিস থেকে পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ, স্ক্যানিং, ট্রেজারিতে সংরক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত ভোট গণনা—প্রতিটি ধাপই প্রার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সম্পন্ন করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পোস্টাল ভোটিং–সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার ১০টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বক্স প্রস্তুত ও লক করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম-১, ২, ৩, ৬, ৭, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬—এই ১০টি সংসদীয় আসনের জন্য নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট বক্সগুলো সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লক করা হয়। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি উপস্থাপন করা হয়, যাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ৯৫ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে উল্লিখিত ১০টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ৬১ হাজারেরও বেশি। তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক ভোটারের পোস্টাল ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব প্রয়োজন, যা জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, পোস্ট অফিসে ব্যালট পৌঁছানোর পর যাঁরা সেগুলো পরিচালনা করবেন এবং পরবর্তী সময়ে ট্রেজারিতে সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন—সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী আইন, বিধিমালা ও দায়িত্ব সম্পর্কে তাঁদের সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সুযোগ না থাকে।
তিনি জানান, পোস্ট অফিস থেকে ট্রেজারিতে নেওয়ার আগে প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করা হবে। এই স্ক্যানিং কার্যক্রম প্রার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। স্ক্যান শেষে ব্যালটগুলো একটি পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষে সংরক্ষণ করা হবে, যেখানে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা চালু থাকবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ নজরদারির আওতায় রাখতে প্রার্থীদের এজেন্টদের নিয়ে একটি সমন্বিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে স্ক্যানিং, সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোনো কার্যক্রমের সময়সূচি আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে প্রার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, “পোস্টাল ভোটিং–সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমের সময় আমরা প্রার্থী প্রতিনিধিদের আগেই জানাব। আমরা চাই, সবকিছু আপনাদের সামনে হোক। এজন্য সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই উন্মুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও বাড়বে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে এসব ভিডিও ফুটেজ যাচাই করা যাবে। এতে করে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা সহজ হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
আইন ও বিধিমালার আলোকে পোস্টাল ভোটিংসহ সব নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা, যেখানে ভোটারদের ভোটাধিকার পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রার্থী এজেন্টদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিং ও সংরক্ষণের এই উদ্যোগ নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।