দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মোহাম্মদ এজাজের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সরকারি পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডিএনসিসির অধীনস্থ বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মিরপুর গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটন দখলভার, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দসহ ডিএনসিসির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২২ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ৮ বিধিসহ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ এজাজকে বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণের জন্য নোটিশ দেওয়া হলে তিনি দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হননি।
এছাড়া আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত প্রয়োজন। এসব যুক্তির ভিত্তিতে আদালতের কাছে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি দুদক এক নোটিশে মোহাম্মদ এজাজকে ২৯ জানুয়ারি দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাঁকে তলব করা হলেও নির্ধারিত তারিখে তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হননি।
২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালতের এই আদেশের ফলে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।