নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, নারী সমাজের শত্রু শিবির হচ্ছে জামায়াত। তিনি বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বেশ্যাখানা’ বলা হয়েছে, আর এখন প্রায় তিন কোটি চাকুরিজীবী নারীকে ‘পতিতা’ বলার মাধ্যমে জামায়াত আবারও প্রমাণ করেছে তারা নারী বিদ্বেষী ও নারী সমাজের চিরশত্রু। রাজনীতির নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করাই এই গোষ্ঠীর মূল কৌশল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিজয় মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষাধারার সদস্যদের মাঝে ‘ভাষা উপহার’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মোমিন মেহেদী। তিনি বলেন, জামায়াত রাজনীতির আড়ালে সবসময় ষড়যন্ত্র ও সুবিধাবাদী চরিত্র প্রদর্শন করে এসেছে। আগে তারা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের লুঙ্গীকে ব্যবহার করেছে, আর এখন ইউনূস সরকারকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তবে জনগণ আর তাদের এই প্রতারণায় পা দেবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোমিন মেহেদী আরও বলেন, একাত্তরে এই নারী সমাজের চিরশত্রু জামায়াত লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানিতে সরাসরি জড়িত ছিল। ইতিহাসের সেই কলঙ্কজনক অধ্যায় ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ছাত্র সংঘ থেকে ছাত্র শিবিরে পরিণত হওয়া এই সংগঠনটি কৌশলে নিজেদের হীন ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে ডাকসুকে কেন্দ্র করে কারচুপির আশ্রয় নিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত ধর্মের আড়ালে অধর্ম চর্চা করে। তারা নিজেদের ইসলামের ধারক হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে তারা আবু জাহেলের উত্তরসূরী, মহানবী (সা.)-এর আদর্শের নয়। ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তারা সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে বলেও মন্তব্য করেন নতুনধারা বাংলাদেশের এই নেতা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নতুনধারার শুভানুধ্যায়ী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, মহিদুল মল্লিক ও হাশেম মোল্লা। বক্তারা সবাই নারী অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
সভায় মোমিন মেহেদী বলেন, দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করার অপরাধে যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশ বিরোধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, নারী সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজ আরও গভীর সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।