ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ফেব্রুয়ারি আমার জন্য মর্যাদা, গর্ব ও বেদনার মাস — তুলি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫২ পিএম

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাঙালির হৃদয়ে জেগে ওঠে ভাষার মর্যাদা, আত্মত্যাগ এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্মৃতি। এই মাস শুধু একটি ক্যালেন্ডারের সময় নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তবে ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলির জীবনে ফেব্রুয়ারি বহন করে আরও গভীর ও ব্যক্তিগত অর্থ—গর্ব, মর্যাদা এবং গভীর বেদনার এক অনন্য মেলবন্ধন।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার এক বিবৃতিতে তুলি বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস আমার জন্য শুধু ইতিহাস নয়, এটি আমার পরিবারের রক্তে লেখা স্মৃতি। এটি গৌরবের, আবার কষ্টেরও মাস।” ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গুমের শিকার স্বজনের বেদনা—এই তিন বাস্তবতা তার জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

তুলির পিতা মরহুম হাজী মফিজুল ইসলাম ছিলেন মহান ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ভাষার জন্য সেই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার চেতনা পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।

এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তেজগাঁও শাহীনবাগ এলাকায় তার নামে একটি সড়ক নামকরণ করা হয়েছে। এটি শুধু একটি সড়কের নাম নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের একজন সৈনিকের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক।

ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধেও হাজী মফিজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এলাকায় তিনি একজন সৎ, সাহসী ও জনদরদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবেক ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং বর্তমান ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক কাজে অসামান্য অবদান রাখেন।

তার উদ্যোগে এলাকায় গড়ে ওঠে স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদ। সাধারণ মানুষের কল্যাণই ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন। এ প্রসঙ্গে তুলি বলেন, “আমার বাবা ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। মানুষের দুঃখ-কষ্টই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

পিতার মৃত্যুর পর সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তার মেঝ ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এলাকার মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই এক সময় তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সুমনসহ আটজনকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবার জানে না, তারা বেঁচে আছেন না কি আর কখনো ফিরবেন না।

এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা তুলির জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “এক যুগ হয়ে গেলো, আজও আমার ভাই ফিরে আসেনি। প্রতিটি দিন আমাদের পরিবারের জন্য অপেক্ষার দিন।”

ভাইয়ের গুম হওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই তিনি গড়ে তোলেন ‘মায়ের ডাক’। এটি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিখোঁজদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য নির্যাতিত পরিবারকে সাহস, সহানুভূতি ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন।

তুলি বলেন, “যে কষ্ট আমি অনুভব করেছি, সেই কষ্ট যেন আর কোনো মা-বোনকে না পেতে হয়—এই লক্ষ্যেই ‘মায়ের ডাক’।” তার মতে, রাষ্ট্র ও সমাজের নীরবতার মাঝেও মানবিকতার জায়গা থেকে এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

তিনি স্মরণ করেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ব্যারিস্টার আরমানকেও গুম করা হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকার পর তিনি ফিরে আসেন। সেই কঠিন সময়ে তার পরিবারকে সাহস ও সহায়তা দিয়েছেন তুলি ও ‘মায়ের ডাক’। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি ফিরে এসেছেন—এটা আমার জন্য আনন্দের। কিন্তু আমার ভাই আজও ফেরেনি।” কণ্ঠে ঝরে পড়ে না বলা বেদনা।

এখন সংসদে যেতে চান এই মানবিক সংগ্রামের কণ্ঠ হয়ে। তুলির প্রত্যাশা, নির্বাচিত হলে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে গুম ও নিখোঁজদের বিষয়ে জোরালোভাবে কথা বলবেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু একজন প্রার্থী নই, আমি একজন ভাষা সৈনিকের সন্তান, একজন মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি এবং একজন গুম হওয়া ভাইয়ের বোন। সংসদে গিয়ে আমি আমার ভাইসহ যারা ফিরে আসেনি—তাদের জন্য কথা বলতে চাই।”

ঢাকা–১৪ আসনের ভোটারদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন মহান ভাষা সৈনিকের সন্তানের প্রতি সমর্থন ও ভোট দিয়ে পাশে থাকবেন। আপনাদের সমর্থনই আমাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেবে।”

ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং গুম হওয়া স্বজনের বেদনা—এই তিন শক্তিকেই নিজের রাজনীতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি। স্থানীয়দের মতে, তার ব্যক্তিগত ইতিহাস, মানবিক সংগ্রাম ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার ভোটারদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর