অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে ৫ হাজার ৬৯০ জন কারাবন্দি ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে চারশর বেশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কারা অধিদফতর জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বুথের মাধ্যমে বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট কার্যক্রম ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারের ভোট কার্যক্রমে সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি–মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, মোট ৫ হাজার ৬৯০ জন কারাবন্দি ভোটার এই ব্যবস্থায় ভোট দিয়েছেন। এই ভোটারদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা চারশর বেশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিও রয়েছেন। তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন।
এআইজি জান্নাত-উল ফরহাদ আরও বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই ভোটারদের আদালতের রায়ে ফাঁসি প্রদান করা হয়েছে এবং এ সব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভোট দেওয়ার জন্য কারাবন্দিদের ইচ্ছার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করে কারাবন্দিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতিটি ভোটারের জন্য আলাদা খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ অন্যান্য কারাগারে বুথে প্রবেশ করে বন্দিরা ভোট প্রদান করেছেন। সরকারি ছুটি বাদে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাবন্দি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ মোট ২২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভোটার হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন সাবেক সচিব এবং পুলিশের কর্মকর্তাও ভোট দিয়েছেন। তবে রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ভোটার হতে অনিচ্ছুক হওয়ায় তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারাবন্দিদের অংশগ্রহণের ইতিহাস গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে মনোযোগী হয়েছেন নাগরিকরা। নির্বাচন কমিশন এবং কারা অধিদফতর যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
কারাবন্দিরা যাতে নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কারাগারে ভেটারদের জন্য আলাদা বুথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আকাশজমিন / আরআর