ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গুম হওয়া বাবার জন্য ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাইলেন সুমনের মেয়ে রাইতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৫৭ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার:

স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুরের সাবেক ৩৮, বর্তমান ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ৮ জনকে। সেই দিন থেকে নিখোঁজ সুমন। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে থমকে গেছে একটি পরিবারের জীবন।

সেই সময় সুমনের বড় মেয়ে হাফসা ইসলাম রাইতা ছিল ছোট্ট শিশু। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোট বোন আরোয়া স্কুলে পড়ে। কিন্তু বাবাহীন শূন্যতা আজও তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মিরপুরে গণসংযোগে অংশ নিয়ে রাইতা তার ফুপু ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক এবং ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চান। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা তুলে ধরেন।

রাইতা বলেন, “ব্যারিস্টার আরমান চাচ্চু ফিরে এসেছেন। আমি তাকে ছুঁয়ে দেখেছি। সেখানে আমার বাবা সুমনের গন্ধ খুঁজেছি। কিন্তু এক যুগের বেশি হয়ে গেলো, এখনো আমার বাবা ফিরে আসেনি।” তিনি আরও বলেন, “আমার তুলি ফুপু আমার বাবাসহ যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছেন। আমি মিরপুর-১৪ বাসীর কাছে আকুল আবেদন করছি—আপনারা সবাই ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ফুপুকে বিজয়ী করুন। তাহলে জাতীয় সংসদে গুম হওয়া স্বজনদের পক্ষে শক্তভাবে কথা বলার একজন মানুষ পাবো।”

পরিবারের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাইতা জানান, “আমার ছোট বোন আরোয়া প্রতিদিন বাবার ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে—কবে বাবা আসবে? আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমার বৃদ্ধা দাদীমা, ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজেরা খাতুন, দরজায় কেউ কড়া নাড়লেই বলেন—তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দে, মনে হয় আমার সুমন ফিরে এসেছে। কিন্তু আজও সে আসেনি। আমার মা নাছিমা বেগম প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, যদি হঠাৎ ফিরে আসে।” তিনি যোগ করেন, “আমাদের জীবন যেন থেমে গেছে।”

রাইতা বলেন, তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়ার পর আবারও তারা আশার আলো দেখছেন। “ইনশাল্লাহ তুলি ফুপু বিজয়ী হলে আমার বাবাসহ যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের বিষয়ে সঠিক তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।” এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, নারীসমাজ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। গণসংযোগে রাইতার কান্নাভেজা আবেদন উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। তার একটাই আকুতি—বাবাকে ফিরে পাওয়ার। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই সে জনগণের কাছে ভোটের আবেদন জানাচ্ছে। 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর