শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর জাতীয় উদ্যানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ঢাকা–১৪ আসনের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানকার মানুষ। তরুণদের উদ্যম ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে এই এলাকাকে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি বলেন, “নবীন ও প্রবীণের সম্মিলিত শক্তিতে আমরা ঢাকা–১৪ আসনকে সন্ত্রাস, মাদক ও দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি বা দুর্নীতিবাজ চক্র সুবিধা করতে পারবে না।”
যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজের অবক্ষয়ের জন্য বাইরের কাউকে দায়ী না করে আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তুলি বলেন, “সমাজের অবক্ষয়ের জন্য বাইরের কেউ দায়ী নয়। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রত্যেক পরিবার থেকেই শুদ্ধ অভিযান শুরু করতে হবে।” তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা–১৪ আসনের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় উদ্যান ও জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করা হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে এসব স্থাপনা শুধু বিনোদনের কেন্দ্রই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনার বড় উৎসে পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করে প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “তারেক রহমান ইনশাল্লাহ এদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ ও ঢাকা–১৪ আসনের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।” তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও ভালোবাসায় গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয় নিশ্চিত হলে দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পাবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “১২ তারিখ সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কেউ যেন জাল ভোট দিতে না পারে সেজন্য চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের বস্তিতে পাহারার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কালো টাকার প্রভাব বা কোনো ধরনের অনিয়ম ঢুকতে না পারে।
তিনি জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটই গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, মো. হানিফ, ডা. আরিফ এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঢাকা–১৪ আসনে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।