অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি লাল কার্ড দেখাবে। তিনি বলেন, যারা একদিকে দুর্নীতি দমনের কথা বলে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেয়—তারা কখনোই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ দেশের মানুষ মেধাবী ও পরিশ্রমী। কিন্তু অতীতের নেতৃত্বে সততার অভাব ছিল। তারা দুর্নীতি থেকে নিজেদের হাত মুক্ত রাখার শপথ নেয়নি। দেশের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না বলেই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না। তারা আমাদের সামনে নিয়ে এগিয়ে যাবে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
নাহিদ ইসলাম প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এখানে দুজন প্রার্থী আছেন। কিন্তু নাহিদ ইসলামের জন্ম এখানেই, বেড়ে ওঠাও এখানেই। আমি মায়ের কাছে মাসির গল্প শোনাতে চাই না। আমার চেয়ে আপনারাই নাহিদ ইসলামকে ভালো চেনেন। তিনি এলাকার সন্তান, মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে জড়িত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তবে এটুকু স্পষ্ট করে বলতে চাই—১১ দলীয় জোট যদি সরকার গঠন করতে পারে অথবা ইনসাফের পক্ষে যদি বাংলাদেশের রায় আল্লাহর মেহেরবানিতে অর্জিত হয়, তাহলে সেই সরকারে অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবে আপনারা দেখবেন, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সৎ, যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা জনগণের কষ্ট বোঝে, যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না—নাহিদ ইসলাম সেই নেতৃত্বের প্রতীক।
বিএনপির উদ্দেশে কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, একটি দল মুখে দুর্নীতি দমনের কথা বলছে, অথচ বাস্তবে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছে। যারা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়নি, যারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে—তাদের দিয়ে কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব?
তিনি বলেন, ঋণখেলাপিদের আশ্রয় দিয়ে, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে কখনোই দুর্নীতি দমন করা যায় না। জনগণ এখন সচেতন। তারা জানে কে সৎ, কে অসৎ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এসব চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা হুংকারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়, ইনসাফ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনীতিতে। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, আমাদের লক্ষ্য দেশ ও জনগণের কল্যাণ।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়। এটি সৎ ও অসৎ রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার নির্বাচন। জনগণের হাতে এখন সুযোগ এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার—তারা কি আবার দুর্নীতি, লুটপাট ও ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেবে, নাকি ইনসাফের পথে হাঁটবে।
নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় নয়, লোভ নয়—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ন্যায়পরায়ণদের সাহায্য করেন। ইনসাফের পক্ষে রায় এলে বাংলাদেশ নতুন পথে এগিয়ে যাবে।
আকাশজমিন / আরআর