বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, ১১ দলীয় জোটের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি চাই নির্বাচনের দিন, ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে পারি। আল্লাহ যেন আমাকে এই পরীক্ষায় সফল হতে সাহায্য করেন।”
রোববার রাজধানীর আরামবাগে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস আরও জানান, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এমন কিছু অশালীন মন্তব্য করছে যা মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি নিজে এসব পরিস্থিতিতে জড়াতে চান না এবং নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাইছেন।
মির্জা আব্বাস গণসংযোগে বলেন, “আমি দেখছি, নির্বাচন বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে কিছু দল কাজ করছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে। তারা যা করবে, তার দায় অন্য দলের ওপর চাপানো হচ্ছে। কারণ তাদের সমর্থিত দল বর্তমান ক্ষমতায় আছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের লোক বসানো আছে। প্রয়োজন হলে তারা নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেট করতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের প্রশাসন পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারা কীভাবে নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে এই ধরনের হুমকি দিতে পারে তা প্রশ্নবিদ্ধ। মির্জা আব্বাসের মতে, এই সাহস তাদের পাওয়া সম্ভব হয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সমর্থিত ব্যক্তিদের কারণে।
রোববার সকাল থেকে মির্জা আব্বাস কমলাপুর, ফকিরাপুল, আরামবাগ, ফকিরাপুল এবং কালভার্ট রোড এলাকায় গণসংযোগ চালান। বিকেলে তিনি কমলাপুর কালভার্ট রোড থেকে বাবা রহমত উটখামার পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেন। সন্ধ্যায় সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি রাতের সময়ে বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টারে জনসংযোগ করার কথা রয়েছে।
তিনি নির্বাচনী অশান্তি ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সতর্ক করে বলেন, “আমার লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করা। কোনও ধরনের চাপ বা হুমকিতে আমি থেমে থাকব না। আমরা আমাদের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি এবং জনগণকে ভোটাধিকারের বিষয়ে সচেতন করছি।”
মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা ও ধৈর্যের পরীক্ষার দিক তুলে ধরছে। তিনি ভোটারদের কাছে সতর্কতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকে।
আকাশজমিন / আরআর