আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অভিযোগ উঠেছে যে, এটি মূলত জালিয়াতির ভিডিও করতে না দেয়ার জন্য, যাতে অনিয়ম ও ভোটচুরি চিত্রিত হতে না পারে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি তার ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডিতে এই বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট দেন। হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও এলাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এর মানে হলো, যদি কোনো বিপদ ঘটে, তাও কেউ কল করে জানাতে পারবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে চাইবেন না।
সিসি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম বা জালিয়াতির চিত্র ধারণ করতে পারবে, তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল ও ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে, কারণ এটি সাথে সাথেই ভিডিও রেকর্ড করে নেবে।
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, হয়তো এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ করতে না পারে, সেজন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ তৈরি করতে পারে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।
নির্বাচন কমিশনের চিঠি
এর আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। গতকাল রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের সই করা এই সংক্রান্ত চিঠি সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কর্মকর্তা এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার সদস্য এবং ভিডিপি সদস্যরা থাকবেন।
এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, এমন সিদ্ধান্ত জনগণের নির্বাচনী অধিকার রোধ করবে এবং নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আকাশজমিন / আরআর