ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ইএএসডির জরিপ

বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:০৯ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি)। সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে ইএএসডির জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইএএসডি দাবি করেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতি অনুসরণ করে এই জরিপটি করা হয়েছে। মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপটি ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়, যেখানে ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রাহক মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।

দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জনমিতিক দৃষ্টিকোণ প্রতিফলনের জন্য ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার নির্বাচন করা হয়, এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন ও শহরাঞ্চলের জন্য ওয়ার্ডকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকার মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মধ্যে ২৬ হাজার ৫৬০ জন পুরুষ (৬৪%) এবং ১৪ হাজার ৯২২ জন নারী (৩৬%) ছিলেন। বয়সভিত্তিক ভাগে দেখা যায়, ১৮-৩০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৭.২%, ৩১-৪০ বছর ২৭.৫%, ৪১-৫০ বছর ১৭.৭% এবং ৫১ বছরের বেশি ১৭.৬%।

জরিপে সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী ২১.৯% ছিলেন ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ৫%, ছোট ব্যবসায়ী ১৬.৯%। কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতের অংশগ্রহণ ১৩.২%, গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ১৯.১%, এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ১৪.৫%।

ফলাফলে দেখা যায়, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভোটারের বড় অংশ বিএনপিকে সমর্থন করছেন। সর্বোচ্চ ৬৬.৩% ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ১১.৯% সমর্থন পেয়েছে, এনসিপি ১.৭%, জাতীয় পার্টি ৪% এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২.৬% সমর্থন পেয়েছেন। নারী ভোটারের মধ্যে ৭১.১% বিএনপিকে সমর্থন করছেন।

ভৌগোলিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সমর্থন চট্টগ্রাম (৭৬.৮%) ও সিলেট (৭৫.৬%)। বরিশাল (১৭.৮%) ও খুলনায় (১৮.৬%) জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৩% সমর্থন পেয়েছে।

আগে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবারের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, তাঁদের মধ্যে ৮০% ভোটার আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের ১৫% জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিয়েছেন এবং বাকি ৫% অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানিয়েছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৬.৪% বিশ্বাস করছেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। একই সময়ে ৬৬.৩% ভোটার মনে করছেন, তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবেন। এছাড়া, ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সর্বাধিক সমর্থন (৬৮%) লক্ষ্য করা গেছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ১৪% এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২% সমর্থন পেয়েছেন। ১৬% উত্তরদাতা এ বিষয়ে মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শামসুল আলম সেলিম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর