ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শিবগঞ্জের ভাসু বিহারে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা


শিবগঞ্জের ভাসু বিহারে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:১৫ পিএম

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলার মডেল উপজেলা হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘকাল ধরে শাকসবজি ও ফসল উৎপাদনে “উত্তরের সবজির ভাণ্ডার” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এখানকার উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ু, করতোয়া, নাগর এবং গাঙনাই নদীর অফুরন্ত জলধারা, অসংখ্য খাল-বিল-পুকুরের সহজলভ্যতা এবং পরিশ্রমী কৃষক সম্প্রদায়ের অক্লান্ত চেষ্টায় এ অঞ্চল কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বছরে ৫০-এরও বেশি ধরনের শাক-সবজি ও ফসল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে সারাদেশে পরিচিত বগুড়ার লাল আলু, লাল মরিচ, মোকামতলার বিখ্যাত সাগরকলা এবং শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ স্থান দখল করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) তথ্য অনুসারে, বিগত মৌসুমে শিবগঞ্জসহ বগুড়া জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে প্রায় ১৩,২০০ হেক্টর জমি ব্যবহৃত হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩,২০,০০০ টন। চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে এই উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা। শিবগঞ্জ এই অঞ্চলের মধ্যে রপ্তানি কার্যক্রমে গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত সক্রিয় ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে আলুর রপ্তানিতে ১০,০০০ টন, ফুলকপি-বাঁধাকপিতে ৫,০০০ টন এবং মরিচ-টমেটোর মতো অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে দিন দিন রপ্তানি চাহিদা বাড়ছে। এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং নেপালের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও শক্তিশালী করছে।

কৃষি-সমৃদ্ধ এ উপজেলার ঐতিহাসিক গভীরতা আরও মনোহর। প্রাচীন বাংলার রাজধানী খ্যাত মহাস্থানগড় এবং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীর জন্মভিটা ভাসু বিহার ও ইতিহাসখ্যাত কমলা সুন্দরীসহ অনেক কবি সাহিত্যেকদের জন্ম এ উপজেলাতেই। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ (Xuanzang) ৭ম শতকে (৬২৯-৬৪৫খ্রিষ্টাব্দ ভ্রমন করেন) ভ্রমণ করে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে বর্ণনা করেছেন যে, এ অঞ্চলে একটি বিহারে প্রায় ৭০০ বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং শিক্ষার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ভাসু বিহার ছিল জ্ঞানচর্চার এক জীবন্ত কেন্দ্র—মহাযান বৌদ্ধধর্মের আলোকিত আলয়।

৮ম শতকের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে, তখনকার সময়ে বৌদ্ধ শিক্ষা এবং ধর্মীয় আলোচনার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। প্রতিবেশী অঞ্চলের শিক্ষার্থী এবং ভিক্ষুরা এখানে জ্ঞানার্জন করতেন। এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শিবগঞ্জ শুধু কৃষির কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষা-জ্ঞানেরও উত্তরাধিকারী আলয়।

এই প্রেক্ষাপটে, আমি প্রস্তাব করছি যে ভাসু বিহারে একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। এটি না শুধু এ অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেনা, একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের মডেল তৈরি করবে। এক্ষেত্রে নিচের প্রস্তাবগুলোকে অনুসরন করা দরকার-

প্রথমত, শিবগঞ্জের উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ু এবং বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনের জন্য এটি আদর্শ স্থান। ইতিমধ্যে এখানে বাংলাদেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, যা কৃষি গবেষণার শক্ত ভিত্তি প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী স্থানে না গিয়ে এখানেই উন্নত গবেষণার সুযোগ সুবিধা পাবেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত গ্রামীণ পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়, কারণ গবেষণা ও মাঠভিত্তিক শিক্ষার জন্য বিস্তৃত জমির প্রয়োজন হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় পরিসরের খোলা ও গবেষণোপযোগী এলাকায় গড়ে তোলা হয়। কারণ প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি—যেমন কৃষি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং,ড্রোন-ভিত্তিক চাষাবাদ এবং স্মার্ট প্রযুক্তির চাষাবাদ ও অত্যাধুনিক ইরিগেশন সিস্টেম,কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি প্রয়োগ করে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করবে।

দ্বিতীয়ত, অঞ্চলের যুবকদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এটি একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হবে। সম্প্রতি এলাকার যুবকরা লেবু, মালটা, কমলা, লিচু এবং ড্রাগন ফ্রুটের মতো ফল চাষের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যাতে শিক্ষিত যুবকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্টার্টআপ প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং কৃষি-ভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। এটি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সুবিধা প্রদান করে তাদের অবহেলা থেকে মুক্তি দেবে।

তৃতীয়ত, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এই প্রস্তাবকে আরও যৌক্তিক করে তোলে। বগুড়ায় কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সারিয়াকান্দিতে নতুন নৌবন্দরের কাজ চলমান, যা বিদেশে কৃষি পণ্যের রপ্তানিকে সহজতর করবে। এছাড়া বগুড়ায় নতুন রেল লাইন সংযোগের সুযোগে মহাস্থানবাজারকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে সবজি দ্রুত এবং কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাবে।


দেখা যায় এখানে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে প্রায়ই শাকসবজি ও ফসল কৃষকরা জমিতেই বা বাজারসংলগ্ন রাস্তায় ফসল নষ্ট করতে বাধ্য হন, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মহাস্থান বাজার, যা ৩০০ বছরের পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী বাজার,যেখানে প্রতিদিন ৫০০-৮০০ টন বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি ও কৃষিপণ্যে কোটি কোটি টাকার কৃষিবাণিজ্য চলে, প্রতিদিন বিভিন্ন ফসল বাদে শুধু শাক-সবজি প্রায় ৮০-৯০ ট্রাক ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান বাজারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ স্থাপিত হলে গবেষণা, উৎপাদন ও বাজার—এই তিনের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে। এটি স্থানীয় দামের তারতম্য কমিয়ে কৃষকদের লাভ বাড়াবে এবং সারাদেশের ভোক্তাদের সাশ্রয়ী করবে।

চতুর্থত, ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত দিক থেকে এটি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ। ভাসু বিহারের মতো প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে আমরা ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই কৃষির প্রচার করতে পারি। উত্তরবঙ্গ দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদন অঞ্চল।

রংপুর বিভাগে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও—কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যা পূর্বে কৃষি কলেজ ছিল এবং এখনো কৃষি শিক্ষা সেখানে প্রধান গুরুত্ব পায়)। রাজশাহী বিভাগে কোনো স্বতন্ত্র সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এই বাস্তবতা বিবেচনায় বগুড়ার ভাসু বিহারে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উদ্যোগ হতে পারে। ফলে, উত্তরবঙ্গের কৃষি-নির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নত হবে। এসব দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকে ধারণ করেই এখানে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এক অনন্য প্রতীকী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।

পঞ্চমত, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। বগুড়ার কৃষকরা আজ অবহেলিত,সম্প্রতি আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা। এমন অবস্থা চললে কৃষক নিরুৎসাহিত হবে কৃষি অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের কাছে প্রত্যাশা যে কৃষিকে শুধু স্লোগান না বানিয়ে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করা হোক। এই প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিলে, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে বিদেশযাত্রা রোধ হবে এবং কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। গবেষণা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করে অঞ্চলটিকে একটি মডেল কৃষি হাবে পরিণত করবে।

ষষ্ঠত, আজ বাংলাদেশে যুবকদের বেকারত্বের হার ৮-১২% ছাড়িয়ে গেছে, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে এটা আরও ভয়াবহ—গ্র্যাজুয়েটদের ১৩.৫% পর্যন্ত বেকার। গ্রামের ৬৯% যুবক বেকারত্বের শিকার, শহর-গ্রামের ফারাক বাড়ছে। ফলে হাজার হাজার তরুণ মন ভেঙে বিদেশের পথ ধরছে—২০২৫ সালে ১.১৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইরে গেছে, রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩২ বিলিয়ন ডলার।

কিন্তু এই যাত্রা কতটা কষ্টের! অনেকে ঋণ করে যায়, অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে, কেউ কেউ আর ফিরতে পারে না। ৫৫% যুবক (১৮-৩৫ বছর) বলছে, তারা বিদেশ যেতে চায়—কারণ দেশে ভালো চাকরি, নিরাপত্তা, সুযোগ নেই। ১৭ বছরের বঞ্চিত বগুড়াকে নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা দূরদর্শী হতে হবে, শতবছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। ভাসু বিহারে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে কৃষির উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে যাবে—তরুনরা বিদেশের পথ না ধরে দেশেই থেকে যাবে, কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।

কল্পনা করুন—ভাসু বিহারের পাশে সবুজ ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি গবেষণা করছে লাল আলুর নতুন জাত, মরিচের রোগ-প্রতিরোধী বীজ, স্ট্রবেরি-ড্রাগন ফ্রুটের বাণিজ্যিক চাষ। দেশে তরুণ শিক্ষিত কৃষকরা স্টার্টআপ শুরু করছে—যেমন agri-tech কোম্পানি, যা ফার্মারদের ডিজিটাল মার্কেটিং, ড্রোন স্প্রে, AI-ভিত্তিক ফসল মনিটরিং দিয়ে সাহায্য করছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ৫০+ agri-tech স্টার্টআপ চলছে—যেমন Foshol, AgriPreneur, Krishi Shwapno—এবং এরা হাজার হাজার যুবককে চাকরি দিচ্ছে, ভবিষ্যতে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

সপ্তমত, উপজেলার অনেক তরুণ-তরুণী পারিবারিকভাবে কৃষির সাথে জড়িত থেকে বড় হয়। তাই তারা যদি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়, তাহলে তাদের আগের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান মিলিয়ে কৃষিক্ষেত্রে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে। তারা হাতে–কলমে কাজেও দক্ষ হবে। এছাড়া এ এলাকায় ফসল রোপণ থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত মাঝের সময়টায় অনেক মানুষ কার্যত বেকার থাকে, কেউ কেউ জীবিকার জন্য রাজধানী শহরে গিয়ে রিকশা চালায়। যদি উপজেলায় প্রযুক্তিগত কৃষি ব্যাবস্থা গড়ে উঠে তাহলে কৃষির প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পও গড়ে উঠবে দ্রুত, ফলে এই সময়টায় স্থানীয়ভাবেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সাথে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাবে, ফলে এলাকার উন্নয়নের সাথে দেশের সার্বিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি বুঝেছিলেন—এই মাটির মানুষ, কৃষক-শ্রমিকই দেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি। তাই খাল কাটা কর্মসূচি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নের সাহসী উদ্যোগ নিয়ে তিনি কৃষিতে যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, তা ছিল এক নবজাগরণের অগ্নিশিখা। শহীদ জিয়ার সেই অনুপ্রেরণার আলো এখনো জ্বলছে।

সুযোগ পেলে তাঁর পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাবেন। শিবগঞ্জের ভাসু বিহারে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সেই স্বপ্নপূরণের একটি বাস্তব ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ধারণ করে যদি আমরা কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবে এই মাটির ফসল শুধু বাংলাদেশকেই নয়, গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করবে। কৃষকের হাসিই হবে জাতির অগ্রগতির প্রতীক।

পরিশেষে, সরকার, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান— শিবগঞ্জের ভাসু বিহারে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব নয়—এটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ঐতিহ্য, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা। এটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের কৃষকদের দয়া নয়, ন্যায্যতা প্রদান করবে, “উত্তরের সবজির ভাণ্ডার”কে বিশ্বমানের কৃষি জ্ঞান ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে রূপান্তর করবে, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

লেখক :- কৃষিবিদ মুহাম্মদ তাহাজ্জত আলী

ব্যাংকার এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক

শিবগঞ্জ উপজেলা (বগুড়া) কল্যাণ সমিতি,ঢাকা।

📧 tahazzatali@gmail.com

📞☎📲 +8801912 109425


এ সম্পর্কিত আরো খবর