ভোট কেনার অভিযোগে রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরে থানা জামায়াতে নায়েবে আমির মো. হাবিবকে টাকাসহ আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে সন্দেহজনকভাবে ভোটারদের সঙ্গে লেনদেন করছিলেন মো. হাবিব। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সূত্রাপুরের ৪৪ নং ওয়ার্ডের একটি চালের দোকানে বসে কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলছিলেন মো. হাবিব। এ সময় তাকে ভোটারদের হাতে টাকা দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ভোটারদের কাছে টাকা দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ পর্যালোচনা করে মো. হাবিবকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোট কেনা বা প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটারদেরও কোনো প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটারদের টাকা বা উপহার দিয়ে প্রভাবিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। সূত্রাপুরের এ ঘটনাটি সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।