ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সকাল থেকেই দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল হওয়ার আগেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী ভোটাররা নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রগুলোতে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। অনেক ভোটার ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার পূর্বেও ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ভোট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকায় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব কে দেবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার যেমন জুলাই সনদের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে ভোটের ফলাফলের উপর।
এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটাররা দুটি ব্যালটপেপারে ভোট দেবেন—সাদা ব্যালট সংসদ-সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য। ভোট শেষে কেন্দ্রগুলোতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করবেন। পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন।
গত তিন নির্বাচনে বিতর্কের পর এই নির্বাচন প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক। সাধারণ মানুষ উৎসাহিত ও উদ্দীপিত। তবে প্রধান দুটি দলের—বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার শঙ্কা রয়েছে। ভোটের আগের দিন নির্বাচন কমিশনে দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছে।
নিরাপত্তার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনা, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ ৩ হাজার, পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন এবং আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। নির্বাচনে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২১,৫০৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরাও নজর রাখছেন। ৫৫০ জনের বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে উপস্থিত আছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোট দেওয়া শুধুমাত্র নাগরিক অধিকার নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব। নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ও স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে আসুন। জয়-পরাজয়কে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন।”
সিইসি আরও বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিকদের সহায়তায় ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থার জন্য সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশজমিন / আরআর