ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। এটি আমাদের অগ্রাধিকার।” দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তার এমন বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই সমান নাগরিক। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কোনো ভেদাভেদ তারা মানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিক পরিচয় ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিভক্ত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমরা এ দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমরা কখনোই সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানি না। এটা শুধু বিশ্বাসের ভিত্তিতে বলা হয়। আমরা তা স্বীকার করি না।”
ভারত সফর নিয়ে কোনো দ্বিধা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তার কোনো আপত্তি বা সংকোচ নেই। তবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থা দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১৮ মাস পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইসলামি ধারার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের সঙ্গে সাবেক মিত্র দল বিএনপির। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দলকে নিয়ে জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়াত।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোটের প্রাক্কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সুর তুলে ধরেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।