ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের দায়িত্ব জনগণ বিএনপিকে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা সমাপ্ত হওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “গত রাত থেকেই আমরা ফলাফল শুনছি। আমাদের দলের সঙ্গীরা সারারাত কমিশনের মাঠে অবস্থান করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট যে, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে যে জোট গঠন হয়েছিল, তাদের অনেকেই বিজয়ী হয়েছেন। তাই আমরা মনে করি, জনগণ আগামী পাঁচ বছরের কল্যাণের দায়িত্ব বিএনপি এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছেন।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনে এই প্রাপ্ত বিজয় কেবল সংখ্যাগত নয়, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের স্পষ্ট বার্তা। জনগণ পরিবর্তন চায়, নীতিভিত্তিক সরকারের প্রত্যাশা রাখে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রত্যাশা পূরণ করা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করা।”
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, “আমাদের দল ও জোটের সকল সদস্য এই দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া আস্থা একটি চ্যালেঞ্জ এবং আমরা তা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণ আমাদেরকে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা শুধু পার্টির নয়, দেশের উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রস্তুত।”
তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্বাচনের মাঠে অনবরত পরিশ্রম করেছেন। এই আস্থা ও সমর্থন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য শক্তি যোগাচ্ছে। আমরা জনগণের আস্থা ধরে রাখতে, আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে এবং নীতিভিত্তিক রাজনীতি চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নজরুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং আমাদের লক্ষ্য দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, শান্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা।”
তিনি আরো বলেন, “এই ফলাফল আমাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে, জনগণ ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং সেবামুখী সরকারের প্রত্যাশা রাখে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রত্যাশা পূরণ করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করা।”
নজরুল ইসলাম খান এই বিজয়কে দল ও দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি কেবল নির্বাচনী জয়ের প্রতিফলন নয়, বরং জনগণের মধ্যে নীতিভিত্তিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। তিনি বলেন, “আমরা এই আস্থা বজায় রাখতে, জনগণের পাশে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”