ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

ইইউ পর্যবেক্ষক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩৪ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানের অনুসারে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ হয়েছে। তবে ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয় বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল্যায়ন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইজাবস বলেন, “নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পেরেছে। তবে নারীর নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কার্যক্রমে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়েছে।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, বাংলাদেশে এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে। ভোট গ্রহণ, কেন্দ্র পরিচালনা, ফলাফল ঘোষণা—সব ধাপেই কমিশন দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে নারী প্রতিনিধিত্ব কম হওয়ায় তারা প্রযোজ্য পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ২০০ জন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৯০ জন সংক্ষিপ্তকালীন পর্যবেক্ষক। উল্লেখযোগ্য, ২০০৮ সালের পর এটি পূর্ণাঙ্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মিশনের পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, “আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি যাতে নিশ্চিত করা যায় ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। ভোটারদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা তা মনিটর করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় কোনও বড় ধরনের বিরূপ ঘটনা লক্ষ্য করা যায়নি, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু ছোটখাটো ত্রুটি ছিল, যা ভবিষ্যতের জন্য সংশোধনীয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের সময় ভোটের নিরাপত্তা, ভোট কেন্দ্রের অবকাঠামো, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতামূলক।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের লক্ষ্য ছিল ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোটারদের অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণের মান যাচাই করা। ইজাবস জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নারীর নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেওয়া হবে।

এমতাবস্থায়, ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ত্রুটি দূর করা এখনো প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর