প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবিষ্যতে তার আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং এ জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
আলী রীয়াজ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে বড় আকারে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এভাবে জনগণ স্পষ্টভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণভোটের ফলাফল প্রমাণ করে দেশের নাগরিকরা পুরনো ব্যবস্থায় বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চান না; তারা পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরাগী।
তিনি বলেন, “জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার চান। এটি আমাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা যে বাংলাদেশের নাগরিকরা ইতিবাচক পরিবর্তন চান। তারা পুরনো ব্যবস্থায় আটকে থাকতে চান না। পরিবর্তনই তারা চান।”
সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নতুন সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “নতুন সংসদ সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে অভিনন্দন জানাই। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও জনসাধারণের অংশগ্রহণ তা নস্যাৎ করেছে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও সক্রিয়তার প্রমাণ।”
এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয় ছিল গণভোটের ফলাফল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এবং প্রধান উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার আগের পেশায় ফিরে গিয়ে আবার জনগণের সেবা ও গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের জন্য যে কাজ শুরু করেছেন, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং গণভোটের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা যে বার্তা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে যে পরিবর্তন এবং সংস্কারের প্রতি জনগণের আস্থা আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে বার্তা দিয়েছে তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে তা একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।