ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৪০ বাসভবন ও ৫০ গাড়ি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:৫৯ পিএম

দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করার পর এখন চলছে নতুন সরকার গঠনের জোর প্রস্তুতি। হবু মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে ৪০টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে অর্ধশত বিলাসবহুল সরকারি গাড়িও প্রস্তুত রয়েছে, যা শপথ গ্রহণের দিন থেকে দায়িত্ব পালনে ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকেই শুরু হবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় একই স্থানে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এ আয়োজন ঘিরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তুতির ব্যস্ততা চলছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি ও মিন্টো রোড এলাকায় প্রায় ৪০টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব বাসভবনের বেশিরভাগই আগের সরকারের মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা কয়েকটি বাসভবন ব্যবহার করলেও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাড়ি খালি রয়েছে। ফলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আবাসন নিয়ে আপাতত কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রীদের এখনই ওঠার মতো প্রায় ৪০টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু বাড়িতে সামান্য সংস্কার কাজ প্রয়োজন হতে পারে। মূলত হাইজেনিক ওয়াশ, বাথরুম ফিটিংস পরিবর্তন, রং করা ও বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা—এ ধরনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। নতুন সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বাসভবন প্রস্তুতের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’তে অবস্থান করছেন, সেটি নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় ‘যমুনা’ই সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে। তিনি চাইলে নিজের বর্তমান বাসভবনে থাকতে পারেন অথবা নতুন কোনো বাসভবন নির্ধারণের নির্দেশনা দিতে পারেন। অতীতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাংলো একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন তৈরির একটি কমিটির সুপারিশ থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে গেলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া সেটি জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

নতুন সরকারের আবাসন প্রস্তুতির পাশাপাশি যানবাহন সংক্রান্ত প্রস্তুতিও চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে আপাতত ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত কয়েকটি গাড়িও রয়েছে, যাতে ভিভিআইপি প্রটোকল অনুসারে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করলে সেই অনুযায়ী গাড়ির চাহিদা জানানো হবে। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, শপথের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি সরবরাহ করা হবে।


সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে শপথের দিন কতজন মন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন, তার ওপর নির্ভর করে গাড়ির সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। কোনো কারণে একটি গাড়ি বিকল হলে যেন সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প পাঠানো যায়, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়। প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ঘোষণা দল আগেই দিয়েছিল। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে উভয় আসনেই জয়ী হয়েছেন। তার নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে দলটি।

নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনে এক ধরনের ব্যস্ততা ও প্রস্তুতির আবহ তৈরি হয়েছে। আবাসন, যানবাহন, প্রটোকল ও নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই আবাসন ও যানবাহন বরাদ্দ কার্যকর হবে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ। এখন সবার নজর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকার দিকে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর