ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আশাশুনিতে ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:২৯ পিএম

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি’

সোমবার সকাল ১০টায় আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার সংলগ্ন আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয় এর সভাপতিত্বে এবং হাসান ইকবাল মামুন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, মো. আজারুল ইসলাম, আব্দুল কালাম এবং আরাফাত ইসলাম ডেনিসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯৩০ সালে নানাবাড়ি বুধহাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কনুই গাজী এবং মা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। শৈশবে বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে তিনি বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে, এবং ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বক্তারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে (বর্তমানে হাদিস পার্ক) ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে কোতোয়ালি থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে তিনি পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।

১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন কারাবন্দি নিহত হন। তাঁদের একজন ছিলেন ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন। বক্তারা বলেন, মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী আনোয়ার হোসেনকেই দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে স্বীকৃত করা উচিত।

মানববন্ধনে উপস্থিতরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আনোয়ার হোসেনকে অবিলম্বে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তারা উল্লেখ করেন, ভাষা শহীদদের ইতিহাস রক্ষা ও নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের ভাষা সংগ্রামীদের জীবনী সম্পর্কে অবহিত করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

কমিটির সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয় বলেন, “ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেনের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ আমাদের জন্য উদাহরণ। রাষ্ট্র তাঁর যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য এমন কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে।

মানববন্ধন শেষে উপস্থিতরা বিজয় ও ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য নীরব পদযাত্রা সম্পন্ন করেন এবং রাষ্ট্রের প্রতি ভাষা সৈনিকের মর্যাদা প্রদানের পুনরায় আহ্বান জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর