সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 98
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, খাজনা বেড়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদিমাগুরা গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তার প্রবাসী ভাইয়ের নামে থাকা জমির হোল্ডিং নম্বর ৩৩৪-এর খাজনা পরিশোধের জন্য তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে ভূমি উপসহকারীর কাছে ঘুরছেন। এই সময়ে ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশ ইচ্ছাকৃতভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে ১০ টাকার খাজনা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি সংশোধনের জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তিনি দিনের পর দিন বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুস ছাত্তার। তিনি বলেন, নামজারি সংক্রান্ত কাজে গেলে ভূমি উপসহকারী প্রায় এক মাস ধরে ঘুরিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঘুষ না দেওয়ায় তার জমির খাজনা বেআইনিভাবে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সরকারি সেবার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, প্রতিটি কাজের জন্য রেট ফিক্সড করে দিয়েছেন ভূমি উপসহকারী। টাকা না দিলে সে কাজ করে না বরং গ্রাহকদের ঘুরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ভূমি উপসহকারীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এছাড়া তাদের ন্যায্য খাজনা ও নামজারি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।