বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে ঘোষিত তালিকায় দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা স্থান পাননি।
মন্ত্রিসভায় ডাক না পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত হননি।
নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ছাড়া বাকিরা এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে বিস্ময় ও সমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা করা হয়েছে শপথ অনুষ্ঠানের একদিন পর। এতে দেখা গেছে, দলীয় ভারসাম্য এবং ক্ষমতা বণ্টনের জন্য কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদে স্থান না পাওয়ার পরও এসব নেতা দলীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়।
দলীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী এলাকার সমন্বয়, দলীয় কৌশল এবং নতুন নেতাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় যুবক, মধ্যবয়সী এবং অভিজ্ঞ নেতাদের সংমিশ্রণ রাখা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে সরকারি প্রশাসনের সব বিভাগের কর্মকর্তাদেরও সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নেতারা সিভিল সেক্টর, স্থানীয় সরকার ও দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।
সরকার গঠন পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন। শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুপস্থিতি দলীয় সমালোচনা ও জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে দলীয় সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত প্রার্থনা ও কার্যক্রমের সুষ্ঠু সমন্বয়ের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভা দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং প্রশাসন ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা ও তদারকি করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর