অনলাইন রিপোর্টার
প্রবাসী যাত্রীরা যাতে বিমানবন্দরে লাগেজের জন্য এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না হয়, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই লাগেজ বেল্টে তার মালামাল পেয়ে যান।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিকল্পনা শুরু করেছি। শুধু টিকিটিং নয়, আমাদের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং সচিবও আছেন। আমরা বিমানবন্দরকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে লাগেজ হ্যান্ডেলিং থেকে শুরু করে প্রবাসী যাত্রীরা এসে যে ভোগান্তিতে পড়েন, তা দূর হয়।”
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীরা যাতে অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয় এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির শিকার না হন, সেটিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো—একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করতে করতেই যেন তার লাগেজ বেল্টে পেয়ে যান। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বসে আমরা এমন পরিবর্তন আনবো যাতে মানুষ একটি নতুন অভিজ্ঞতা পায়।”
টিকিটিং ব্যবস্থায় সিন্ডিকেটের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিমান খালি যাচ্ছে, অথচ যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছেন না। এর পেছনে অসাধু চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তবে সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। এগুলো নিরসনে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। খুব শিগগিরই হয়তো একেবারে রেডিক্যাল পরিবর্তন না হলেও ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আমরা চেষ্টা করবো আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই যেন মানুষ পরিবর্তনের আভাস পায়।”
গত ১৫ বছরে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডেফিনেটলি, দুর্নীতি হলে তদন্ত হবেই। দুর্নীতির দায়ে অনেকেই এখন জেলেও আছেন। পুরো সেক্টর এখনো দুর্নীতিমুক্ত হয়নি। সেটি ঠিক করতেই আমাদের উদ্যোগ।”
তিনি জানান, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। শুধু বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাই নয়, পর্যটন খাত নিয়েও সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রবাসী যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার—এই তিনটি বিষয়কে প্রাথমিক অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে সেবার মান বাড়াতে প্রশাসনিক ও কারিগরি উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসেই বিমানবন্দর সেবায় সংস্কারের বার্তা দিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, যাত্রীসেবাই হবে মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য।
আকাশজমিন / আরআর