ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করব: জামায়াতের আমির


‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করব: জামায়াতের আমির

  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার চেতনাকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভা জনস্বার্থে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্তকে পর্যালোচনা করবে, প্রয়োজনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং সরকারের কার্যক্রমকে গঠনমূলকভাবে শক্তিশালী করবে।

ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি দিনের বা নির্বাচনের ফল নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘযাত্রা। দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমরা সেই যাত্রা অব্যাহত রাখব। যেখানে সম্ভব একমত হয়ে কাজ করা হবে, প্রয়োজন হলে দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করা হবে এবং সবসময় জনগণের স্বার্থে কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে। গণতন্ত্রে জনগণের মতামত সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে এবং জনমতের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের সাহস, ত্যাগ এবং উন্নত বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস স্মরণ করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, প্রকৃত নেতৃত্ব কেবল মর্যাদা নয়, এটি জনসেবার মাধ্যম। এর উদ্দেশ্য হলো জনগণকে উন্নত করা, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং সর্বোত্তম কল্যাণ নিশ্চিত করা। ক্ষমতা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি আমানত। নেতাদের অবশ্যই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আচরণের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণ না করার ঘটনায় দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জনগণ কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য প্রত্যাশা করে এবং এই বিষয়ে আমরা অটল রয়েছি। সেই কারণে সংসদে শপথ গ্রহণ ও আসনের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।

তিনি যোগ করেন, নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতি বিশ্বাস প্রদর্শন করতে হবে। দেশের নাগরিকরা সমান মর্যাদা পাবে এবং প্রতিটি নীতি ও প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে। জনগণ দুর্নীতিমুক্ত দেশ চায় এবং এই অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা হবে। এছাড়া বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগী ও অংশীদারদের সঙ্গে শান্তি, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার অবিচল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছি। সবাই মিলে এই প্রত্যাশিত যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর