ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগী নেতাদের ফিরিয়ে এনসিপি শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:২৭ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগী নেতাদের ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে। দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় পদত্যাগী নেতাদের দলে পুনঃসম্মিলন, নির্বাচনের পরবর্তী করণীয়, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

দলের শীর্ষ নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩০ প্রার্থী ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস, এবং পদত্যাগী নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনা বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক করা হবে। বৈঠকে সাংগঠনিক আলোচনা ও ভবিষ্যতের করণীয় রূপরেখা প্রস্তুত হবে।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, “আমরা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ সভা ডেকেছি। ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। নির্বাচন পরবর্তী পর্যালোচনা, সাংগঠনিক দুর্বলতা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সভার মূল আলোচ্য বিষয়। আমরা সিদ্ধান্ত নেব, আগামীতে কী করব এবং কী করা উচিত।”

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবিন এবং সারাদেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এনসিপি তাদের দলে ফেরানোর চেষ্টা করছে।

মনিরা শারমিন আরও বলেন, “যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের কারও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, একসঙ্গে সংগ্রাম করেছি। আমাদের দরজা সবসময় খোলা আছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সভায় এ বিষয়গুলো উঠে আসবে। আমরা আলোচনা করব, যারা চলে গেছেন তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় এবং দলকে আরও শক্তিশালী করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, “আমরা এখন দলকে আরও শক্তিশালী করছি। যারা চলে গেছেন, তাদেরও দলে ফেরানো হবে। নতুনভাবে আরও নেতাকর্মী যুক্ত হবে। নির্বাচনে আমরা সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ পেয়েছি, তার ভিত্তিতে দল আরও এগিয়ে যাবে এবং শক্তি অর্জন করবে। আমরা ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, দলকে আরও এগিয়ে নিতে যা যা করণীয়, তা করা হবে।”

এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করছে, পদত্যাগী নেতাদের দলে ফেরানোর মাধ্যমে দলের তৃণমূল শক্তিশালী হবে। নির্বাচনে অনেক প্রার্থী তৃণমূলে যথাযথ সংগঠন না থাকার কারণে বিপাকে পড়েছিলেন। এখন তৃণমূলে সংগঠন দৃঢ় করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক উন্নয়ন, দলীয় নীতি নির্ধারণ এবং নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তৃণমূল শক্তিশালী করতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দলীয় কর্মসূচি, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

এনসিপির এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে থাকবে এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সক্ষম হবে। শীর্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী, পদত্যাগী নেতারা দলে ফিরে আসলে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং কার্যক্রম আরও দৃঢ় হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর