ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এবারের মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মন্ত্রীর বাবা বা পরিবারের সদস্য ইতিমধ্যেই রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে অন্তত সাতজন মন্ত্রীর বাবা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া একজনের বাবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন আফরোজা খানম (রিতা)। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এছাড়া তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানও। রিতার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং মন্ত্রীও ছিলেন। রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই নেতা প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। পুতুল নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির একসময়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। অমিত জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ইশরাক হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তার বাবা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
মানিকগঞ্জ-৯ আসনের ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তার বাবা মো. আনোয়ারুল হোসেন খান ১৯৯১ সালে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের ডা. এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তার বাবা অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন পাঁচবার সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
এই মন্ত্রিসভা দেখায়, রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক নতুন মন্ত্রীর পেছনে পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য স্পষ্ট। নবনির্বাচিতরা বাবা-মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।