যত দ্রুত সম্ভব পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ঝুলে রয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছি। মন্ত্রিসভায় মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।” তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সেবা সহজ করা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে তিনি বড় লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। এসব বিষয় নিয়ে সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “মব সন্ত্রাসসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি যা হয়েছিল, এ নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।” তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
রমজান সামনে রেখে দ্রব্যমূল্যের বিষয়েও সরকারের গুরুত্বারোপের কথা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “রোজা শুরু হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ে মন্ত্রীসভায় আলোচনা হবে।” তিনি জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্য রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। বিশেষ করে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের দিনই নির্বাচনের বিষয়ে এমন ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হলে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সক্রিয় হবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, বাজার পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।