ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে তিন সংকট


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়–এর সামনে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলার প্রশ্ন সামনে এসেছে। এগুলো হলো—অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ, মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের বিতর্ক।

গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এই তিন ইস্যুতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮৮টি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব মামলার একটি অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্য একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ২৬৬ জন সাংবাদিককে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক নিপীড়নের ৫২৩টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৪০ জন সাংবাদিক ফৌজদারি বা হত্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা, কর্মস্থল বা রাস্তায় হেনস্তা, প্রেস কার্ড কেড়ে নেওয়া এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। ফলে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন আইন, প্রশাসনিক চাপ এবং বিজ্ঞাপননির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে অনেক গণমাধ্যম আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপে’ বাধ্য হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন বণ্টন ও লাইসেন্স–সংক্রান্ত নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় আস্থার সংকট তৈরি হয়। সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের জন্য এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। অনেকের মতে, অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী ছিল।

এখন নতুন সরকারের অধীনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই তিন ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতি ও বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল এবং প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ মিলিয়ে যে অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “আমরা কমিশন থেকে যে সুপারিশমালা দিয়েছিলাম—বর্তমান সরকার যেন সেগুলো বিবেচনা করে, বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, বাস্তবায়ন করে। কমিশন থেকে দেওয়া সংস্কারের প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ ছিল—গণমাধ্যমকে সংকটমুক্ত করা, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটিও নিশ্চিত করা। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা দিয়েছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকার তা করতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি এই সরকার সেটা করতে পারে। সেই সদিচ্ছা তাদের থাকলে তারা যেন সেটা করে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে বিএনপি তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘৩০ দফা’য় বলেছিল, তারা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন করবে এবং সংবাদ মাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। সে কারণে আমরা দাবি করি, তারা যেন তা বাস্তবায়ন করে।”

তবে এসব বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে সরকারের নীতিগত অবস্থান ও করণীয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নতুন ভিত্তি পাবে কি না—তা নির্ভর করছে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও আস্থার পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর