সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 125
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার খালকুলা বাজারে আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক জুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থাকার কারণে যানবাহন চলাচল, সাইকেল বা পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কগুলোর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে তাড়াশ পৌর শহর থেকে খালকুলা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি এখন যেন “মৃত্যুর ফাঁদ” হিসেবে পরিচিত। যাত্রী, সিএনজি, অটোরিকশা ও ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য এটি একমাত্র ভরসা হলেও, রাস্তার বেহাল অবস্থা জনজীবন বিপন্ন করছে।
সড়কের কার্পেটিং অনুপস্থিত, পাথর, খোয়া ও বালি উঠে গেছে, আর বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এই গর্তগুলো দীর্ঘদিন শুকায় না। ফলে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় চলাচল করতে গেলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে, অথচ সমস্যার কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
এলজিইডির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পূর্ণ সংস্কারের জন্য উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, “সড়কের বেহাল দশা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা প্রস্তাব দাখিল করেছি, অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।”
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্থানীয়দের ভোগান্তি শিগগিরই কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, চলাচল করা দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে যানবাহন উল্টে যাওয়ার মতো ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও বর্ষাকালে পানি জমে যাওয়ায় সমস্যাটি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও কোন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
সড়কটির বেহাল দশা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি এবং বিপদ তৈরি করছে। দ্রুত সংস্কারের অভাবে জনজীবনে দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের তৎপরতা নিয়ে আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সড়ক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি নিরাপদ হবে।