বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে একটি কাঠামোগত ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই, তালিকা প্রস্তুত, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে যে কোনো ধরনের জটিলতা বা সমস্যা নিরসনে কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এছাড়াও উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হওয়ায় কমিটিতে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে আটটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর পর প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য উপজেলায়ও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা, সেবা ও সুবিধা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে এটি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ঘিরে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।