অনলাইন রিপোর্টার
সারাদেশের পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ তিন মাসের মধ্যে ভরাট করতে হবে। দুর্ঘটনা রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্ট এ নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও দপ্তরকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালে শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনীতে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু দেশবাসীকে দারুণভাবে শোকাহত করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শিশু সাজিদের মৃত্যু ঘটে। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শিশু মিসবাহও একই কারণে প্রাণ হারায়।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন বলেন, “এই সমস্ত দুর্ঘটনা দেশবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধ করতে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছি। আদালত আমাদের এই জনস্বার্থ রিটের শুনানি নিয়ে তিন মাসের মধ্যে সব পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ ভরাট করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।”
হাইকোর্টের এ নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের সব জেলা ও উপজেলায় পরিত্যক্ত নলকূপ খুঁজে বের করা হবে এবং সেগুলি নিরাপদভাবে ভরাট করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সরকার কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন হিসেবে দাখিল করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর নলকূপ একটি প্রাকৃতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। শিশুদের কৌতূহল এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হলে এই ঝুঁকি কমবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
সারাদেশে কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই নলকূপ ভরাটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, সরকারি তত্ত্বাবধানে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তিন মাসের মধ্যে সমস্ত নলকূপ ভরাটের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
হাইকোর্টের এ নির্দেশকে দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের নিরাপত্তা, দূর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনস্বার্থে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এটি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
আকাশজমিন / আরআর