ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নতুন গভর্নর নিয়োগে স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে টিআইবির প্রশ্ন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৪৯ পিএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার যে বার্তা দিচ্ছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী পটভূমি থেকে আসা এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এটি কতটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণ খেলাপি ও বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলের প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ। তিনি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যেমন তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন খাত ও ঢাকাচেম্বার্সের মতো শক্তিশালী লবি। এই পটভূমি বিবেচনায় নিয়ে প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তিনি কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কি বার্তা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েও টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি মনে করছে, এই নিয়োগ ধরে নেওয়া ঝুঁকি ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা পুনরায় তৈরি হতে পারে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক—এখন সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

টিআইবি আরও বলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদটি দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করে না, বরং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুস্থিতি বজায় রাখে। অতএব, একজন ব্যবসায়ী পেছনের লোককে নিয়োগ দিলে জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করছে।

টিআইবির বক্তব্যে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত—এ ধরনের পটভূমি ব্যাংকিং খাতের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠেও ঋণ খেলাপি, ব্যবসায়ী লবি ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

টিআইবির সমালোচনায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছিল। এখন সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থি একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা গভর্নরকে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সম্প্রসারিত নীতি ও কঠোর তদারকি প্রয়োগ করতে হয়। টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রস্ত ব্যাক্তির পেছনের স্বার্থ কি এই পদে তাকে আপস করতে বাধ্য করবে? এ ধরনের নিয়োগ অর্থনীতির স্বাস্থ্য রক্ষায় কতটা সহায়ক হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।

অন্য দিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গভর্নরের পরিবর্তন ও নিয়োগ একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ এবং নতুন সরকারের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও নীতিমালা বাস্তবায়নের আওতায় এসেছে। অর্থমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত বিষয়ে বলেছেন, নতুন সরকার যেসব অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে, সে অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তবে ব্যাংকিং বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে পরিচালিত করার জন্য গভর্নরের পেশাগত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও সুস্পষ্ট নীতি মেনে চলা অত্যাবশ্যক। জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী স্বাধীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এই নিয়োগ কতটা সহযোগী হবে, তা সময় ও কার্যক্রমের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর