তবে এখনো নিহত ব্যক্তির মাথাসহ শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করা যায়নি। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০)। তাঁর বাড়ি নরসিংদী জেলায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকে প্রথমে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তায় কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি কাটা অংশ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তের পর শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করা হয়।
তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটের কাছে দুটি কাটা হাত উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি কাটা পা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা এসব অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় যে এগুলো একই ব্যক্তির শরীরের অংশ। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর দেহের বাকি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করছে।
উদ্ধার করা দেহের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সময় ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপরাধ হতে পারে এবং ঘটনার পেছনে গভীর রহস্য রয়েছে।
এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।