পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলার মাধ্যমে হত্যা করার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে মর্মাহত। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের লঙ্ঘন।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই কঠিন সময়ে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সব সময় আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যে কোনো ধরনের টার্গেটেড কিলিং বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করে—এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সংঘাত কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। বরং সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমেই যেকোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। এ ধরনের সহিংসতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিষয়ে বাংলাদেশ একটি বিবৃতি দিলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অনেকেই সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
সমালোচনার পর আজকের বিবৃতিতে সরাসরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও এ বিবৃতিতেও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা, অন্যদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ না করা—এ দুটির মধ্যে সমন্বয় করার কৌশল দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শান্তি, সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে তার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।