অনলাইন রিপোর্টার
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি পাঁচ দিন নির্ধারিত থাকলেও তা আরও বাড়তে পারে। মুসলিম উম্মাহর ঘরমুখো মানুষদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে বুধবার (৩ মার্চ) জানা গেছে, আগামী ৫ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদুল ফিতরের ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বর্তমানে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, নির্বাহী আদেশে ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিন ছুটি যুক্ত হলে ঈদের ছুটি মোট ১০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে।
এর আগে, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের ছুটি রয়েছে। এরপর ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। ২৭ ও ২৮ মার্চ যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এভাবে ২৪ ও ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি অন্তর্ভুক্ত হলে ঈদের ছুটি এক সঙ্গে ১০ দিন হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব এক বা একাধিক দিন বাড়ানোর জন্য করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই জানা যাবে।
ঈদুল ফিতর নির্ধারণ করা হয়েছে আরবি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। এবছর ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে পারে মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। রমজান মাসের চাঁদ ১৮ ফেব্রুয়ারি দেখা গেছে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়েছে।
পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ঘরের সাথে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করতে পারবে। সরকারি অফিসগুলোর ছুটি বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুবিধা এবং প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া মন্ত্রণালয় মনে করিয়ে দিয়েছে, সরকারি ছুটি বৃদ্ধি হলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অফিসগুলো সময়মতো তার কার্যক্রম পুনর্বিন্যস্ত করতে পারে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ছুটি বৃদ্ধির কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ট্রাফিক, পরিবহন এবং অন্যান্য পরিষেবার চাপ বাড়ে। দীর্ঘ ছুটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নির্বাহী আদেশে ছুটি বৃদ্ধি হলে এটি দেশের পর্যটন ও আঞ্চলিক ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ শহর ভ্রমণ করতে পারবে, পাশাপাশি শহরের মানুষ পরিবার ও গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে সুবিধা পাবে।
উপসংহারে, ঈদুল ফিতরের ছুটি বাড়ানো হলে জনগণের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং উৎসব উদযাপনে পরিবার ও সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঘোষণা করা হবে।