ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত আছে ১৪ দিনের: বিপিসি


দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি মজুদ আছে: বিপিসি

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:৫৩ পিএম

দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় বিকল্প বাজার থেকে তেল আমদানির বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সরবরাহ চেইন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে, তাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গতকাল পর্যন্ত সাতটি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে। আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন জ্বালানির মজুদের মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন। ডিজেলের মজুদ ১৪ দিনের, অকটেন ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েলের মজুদ ৫৫ দিনের সমান। এই মজুদ কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয় বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এর প্রধান কাজ। বিপিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদের হিসাব অনুযায়ী—

ডিজেল: মোট মজুদ ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ১ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ১৪ দিন।
অকটেন: মোট মজুদ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ২৮ দিন।
পেট্রোল: মোট মজুদ ২১ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ১৯ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ১৫ দিন।
ফার্নেস অয়েল: মোট মজুদ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ৯৩ দিন।
জেট এ–১: মোট মজুদ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ৩০ দিন।

বিপিসি বলছে, এসব মজুদ পরিমাণ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নিয়মিত আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সরবরাহ নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মজুদ বৃদ্ধি ও আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকারের একটি বিষয় বলে তারা উল্লেখ করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর