অনলাইন ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যার প্রধান আসামি রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসময় তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) হাদীর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃতরা হাদী হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ও প্রমাণ সরবরাহ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদকে দীর্ঘদিন ধরেই হাদীর হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে অনুসন্ধান করা হচ্ছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, তিনি নানা জায়গায় আত্মগোপন করেছিলেন এবং নিয়মিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন।
এদিকে, তার সহযোগী আলমগীর হোসেনও একই অভিযানের অংশ হিসেবে আটক হয়েছেন। পুলিশের বরাত দিয়ে খবরটি জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশি বিচারবিভাগের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হস্তান্তর করা হতে পারে।
হাদীর হত্যাকাণ্ডটি দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। হত্যার পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহল এই ঘটনার তদন্তের তীব্র দাবি জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামিরা কোনও ধরনের প্রতিরোধ বা পালানোর চেষ্টা করেনি। পুলিশ তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা মামলা তদন্তে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করে আসামিদের দেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি দেখতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত তাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
হাদীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তদন্তের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রধান আসামির গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এর প্রশংসা করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হাদী হত্যার মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।