রাজধানীর উত্তরা এলাকায় খাল ও নালার দুই ধার ঘেঁষে পার্ক ও বসার স্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদন ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে খাল পরিষ্কার, হাঁটার পথ নির্মাণ এবং বসার ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে।
এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (ঢাকা মহানগর উত্তর)। তার তত্ত্বাবধানে খালের পানি পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল এবং পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
খালের পাশে গবাদি পশুর জন্য ঘাস তুলতে আসা এক ব্যক্তি জানান, এলাকায় মশার উপদ্রব অনেক বেশি ছিল। খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার ফলে মশার বংশবিস্তার কমবে বলে তিনি আশা করছেন। এ উদ্যোগের জন্য তিনি বিএনপি এবং তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
খালপাড় এলাকার এক রিকশাচালক বলেন, যারা এই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। খালটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি যদি এখানে একটি পার্ক তৈরি করা হয় এবং ফুল ও ফলের গাছ লাগানো হয়, তাহলে জায়গাটি আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। এতে এলাকাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং যাত্রীও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকার আরেক পথচারী জানান, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর, ১৭ নম্বর সেক্টর এবং ১৮ নম্বর সেক্টরের অনেক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। তারা চান খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক, যাতে মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারে এবং হাঁটার জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ পায়।
বিএনপি নেতা মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন বলেন, “উত্তরার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে যেন নিরাপদে হাঁটতে পারে, বসতে পারে এবং জলাশয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই ধানমন্ডি লেকের মতো উত্তরা দিয়াবাড়ি খালপাড়কে গড়ে তোলা হোক।”
তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এখানে বড় আকারের একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। এতে এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি মানুষ একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবে।
এ সময় তিনি খালপাড়ে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিষয়েও কথা বলেন। তার মতে, লেকের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যা দ্রুত সরিয়ে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, খাল পরিষ্কার ও পার্ক নির্মাণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরা এলাকায় একটি কার্যকর ও নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠবে। এতে নগর জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং পরিবেশও হবে আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।
আকাশজমিন
/ আরআর