আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরও প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা ও নৌসেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার এই পদক্ষেপের তথ্য এনবিসি নিউজ প্রকাশ করেছে। চলমান সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা নিয়ে একটি অ্যামফিবিয়াস অভিযাত্রী ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিট তিনটি যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে পৌঁছাবে। ইউনিটটি জাপানে অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের অংশ, যা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সেনাদের সরাসরি ইরানে স্থলযুদ্ধে ব্যবহার করা হবে এমনটা নিশ্চিত নয়। তবে প্রয়োজনে তারা স্থল, আকাশ ও সমুদ্র— সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা প্রদানের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
এই ইউনিটে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং এমভি-২২ অসপ্রে উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মূলত আকাশে আধুনিক ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হামলার জন্য ব্যবহৃত হবে, আর এমভি-২২ অসপ্রে উড়োজাহাজ দূরপাল্লার দ্রুত সেনা ও সরবরাহ পরিবহন নিশ্চিত করবে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাদের এই অতিরিক্ত মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি রক্ষায় সহায়ক হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুর ওপর সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পূর্বের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা অবস্থান করছে। নতুন মোতায়েনের পর এই সংখ্যা প্রায় ৭ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় রয়েছে, প্রয়োজন হলে এই সেনাদের স্থল, সমুদ্র ও বায়ু তিনটি স্তরে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়েছেন যে এই সেনারা “প্রয়োজনমাফিক প্রতিরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায়” নিয়োজিত থাকবেন এবং সরাসরি স্থলযুদ্ধ বাধ্যতামূলক নয়।
মার্কিন সেনারা জানিয়েছেন, এই ইউনিটের সঙ্গে পর্যাপ্ত আধুনিক অস্ত্রসজ্জা রয়েছে। এতে সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তি এবং বিমান-যুদ্ধ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-নির্ভর সংঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে সামরিক কর্মকাণ্ড এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে। এছাড়া এতে মার্কিন বাহিনীর যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা জোরদার হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর