অনলাইন রিপোর্টার
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং উজ্জ্বল রাখার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবরণীতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই তিনদিনের মধ্যে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শুধুমাত্র অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনকারী কর্মী এবং অনুষ্ঠান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রবেশ করতে পারবেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, ২৬ মার্চের জাতীয় দিবস অনুষ্ঠানের সময়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত সাধারণ জনগণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা, সৌন্দর্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে, এই বিশেষ সময়ে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য বাইরে থাকা নিরাপদ ও নির্দেশিত এলাকা থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার সুযোগ থাকবে।
প্রতি বছরই স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানকে মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য স্মৃতিসৌধে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সাফাই, ফুলমালার ব্যাবস্থা, সিকিউরিটি চেক এবং আলোকসজ্জা তৎপরতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর ফলে অনুষ্ঠান চলাকালীন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা এবং অনুষ্ঠান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখা সহজ হয়।
গত বছরও ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধে এ ধরনের প্রবেশ সীমাবদ্ধতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এবার তিনদিন আগে থেকেই প্রবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এলাকা প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। স্মৃতিসৌধ এলাকার পরিচ্ছন্নতা, ফুলের বাগান এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
স্মৃতিসৌধ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতীক। এই এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অমর রাখার জন্য প্রতি বছর বিশেষ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের সময় এখানে সরকারি ও আন্তর্জাতিক অতিথি উপস্থিত থাকেন।
কর্তৃপক্ষের বিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, “জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠান চলাকালীন নিরাপদভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য এই প্রবেশ বিধিনিষেধ জরুরি।”
এ বিষয়ে দর্শনার্থীদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য অনভিজ্ঞভাবে প্রবেশের চেষ্টা না করার জন্য। পরিকল্পিত প্রবেশ সীমাবদ্ধতার ফলে অনুষ্ঠান সহজ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।
এছাড়া নিরাপত্তার কারণে স্মৃতিসৌধ এলাকায় পুলিশ এবং নিরাপত্তা কর্মী পর্যাপ্ত সংখ্যায় মোতায়েন থাকবেন।
আকাশজমিন / আরআর