দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরের মধ্যে দেশের ছয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে জারি করা নদীবন্দর সতর্কবার্তায় জানানো হয়, দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের কয়েকটি অঞ্চলে আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে। এ সময় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো আবহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় দেশে মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে এমন ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির ঘটনা ঘটতে পারে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এর ফলেই অনেক সময় হঠাৎ করে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি দেখা দেয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশেষ করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং লঞ্চগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সময় খোলা নদী বা সমুদ্রে অবস্থান না করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত এ ধরনের অস্থায়ী ঝড় কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। এজন্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান না করা এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীপথে চলাচল না করার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।