ঈদুল ফিতরের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের শেষ দিন শুক্রবার (২০ মার্চ)। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ফলে বেশিরভাগ ট্রেনই অর্ধেক যাত্রী নিয়েই ঢাকা ছেড়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে দেশের প্রধান এই রেলস্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের আগের দিনগুলোতে যেখানে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে, সেখানে আজ স্টেশনে ছিল এক ধরনের অস্বাভাবিক নীরবতা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাবরই ২৯ রমজান হিসাব করে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে থাকে। এবারও সেই নিয়ম অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হয়। পরে চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের পর একই দিনের সন্ধ্যায় ২০ মার্চ এবং ঈদের পরের দিন ২২ মার্চের টিকিট অনলাইনে ছাড়া হয়। তবে ঈদের দিন ২১ মার্চ দেশে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলবে না বলে ওই দিনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ১৯ মার্চ যেখানে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর ভিড় ছিল, সেখানে আজ তার চারভাগের এক ভাগও নেই। টিকিট কাউন্টারের সামনেও কোনো জটলা নেই। যাত্রী কম থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছেন টিকিট পরীক্ষকরা।
এছাড়া বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছে। আগের দিন ট্রেনে উঠতে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা দেখা গেলেও আজ কোচগুলো প্রায় ফাঁকাই দেখা গেছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকা এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী তাসলিমা স্বর্ণা বলেন, ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার কারণে আগে যাত্রা করার আগ্রহ কম ছিল। তবে কয়েক দিনের ছুটি থাকায় এবং শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়ায় তিনি আজ যাত্রা শুরু করেছেন। তার ভাষায়, ট্রেনে ভিড় কম থাকায় যাত্রা অনেক স্বস্তির হচ্ছে।
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী রাশেদ মাহমুদ বলেন, শেষ দিনে এসে এমন ফাঁকা স্টেশন আগে দেখেননি। ভিড়ের আশঙ্কা থাকলেও এখন যাত্রা অনেক আরামদায়ক মনে হচ্ছে। সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন তিনি।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কখনো ২৯ আবার কখনো ৩০ রোজা পূর্ণ হয়ে ঈদ উদযাপিত হয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধারণত ২৯ রোজা ধরে ছুটি নির্ধারণ করে। সেই হিসেবে রেলওয়ে আগেভাগে টিকিট বিক্রি সম্পন্ন করে। কিন্তু এবার ঈদের তারিখ পরিবর্তনের কারণে শেষ মুহূর্তে নতুন টিকিট ছাড়তে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০ মার্চের টিকিট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাড়া হওয়ায় অনেক যাত্রী তা সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে স্টেশনে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রার শেষ দিনে ভিড়ের পরিবর্তে ফাঁকা স্টেশন ও স্বস্তির যাত্রার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন যাত্রীরা। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে।
আকাশজমিন / আরআর